যখন যান্ত্রিক হয়নি পৃথিবী। তখন মানুষ কিভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো কোথায় পেতো? কার কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। এর সরল উত্তর হচ্ছে মানুষ তখন নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিজ হাতে তৈরি করতো। এরপর মানুষ নিজেদের কষ্ট লাঘবের জন্যে যান্ত্রিকতার দিকে যাত্রা শুরু করে। যা একসময় বিপ্লবে পরিণত হয়। তাতে কিইবা হয়েছে। যান্ত্রিক জগৎটা তখন একটা শ্রেণীর দখলে চলে যায়। সৃষ্টি হয় শ্রেণীতন্ত্রের। আর তাই মানুষের কষ্ট লাঘবের উপায় বের হলেও সমস্ত মানুষ তার ফল ভোগ করেনি। ধীরে ধীরে অবস্থার অগ্রগতি হতে থাকে।

অধিকাংশ মানুষ এর ফল ভোগ করতে থাকে। কিন্তু, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এই সুবিধা ভোগ করতে পারেনি অথবা এই সুবিধা তারা কোন কারনে গ্রহণ করেনি। যে কারনে তাদের নিজের পণ্য নিজে উৎপাদনের সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান। যদিও এই ধারা ধীরে ধীরে কমছে। সমস্ত জনগণ যান্ত্রিক জগতের সুবিধাভোগী হচ্ছে। তবু, নিজের পণ্য, নিজের জন্য, নিজ হাতে উৎপাদন এই নীতিটি এখনো বেশকিছু জনগোষ্ঠীতে বিদ্যমান আছে।

এই যে নিজ হাতে পণ্য উৎপাদন এটারও প্রতিষ্ঠানিক নাম আছে। কেউ বলে হস্তশিল্প। এইসব পণ্য হাতে উৎপাদন করে বলেই হয়তো হস্তশিল্প বলা হয়। আবার কেউ বলে কুটিরশিল্প। আপন কুটিরে পণ্যের উৎপাদন হয় বলেই হয়তো কুটিরশিল্প বলা হয়। একসময় এই হস্তশিল্প কিংবা কুটিরশিল্প ছিলো অবাণিজ্যিক শিল্প। মানুষ নিজের প্রয়োজনে এইসব পণ্য উৎপাদন করতো। এখন বেশীরভাগ সমাজে এটা হয়ে গেছে শখের শিল্প। কেউ কেউ এই শখকেই দিয়েছে বাণিজ্যিক রূপ। তারা তাদের শখের কুটিরশিল্পকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।

বাঙ্গালী নারীদের মাঝে এই কুটিরশিল্প এবং কুটিরশিল্পে উৎপাদিত পণ্য বেশ জনপ্রিয়। বেশকিছু পণ্য এমনও আছে। যেগুলো কুটিরশিল্প ব্যতীত অন্য কোথাও উৎপাদন নেই। বাঙ্গালী নারীদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় একটা হস্তশিল্প হচ্ছে নকশীকাঁথা। অসাধারণ কারুকাজ ও অসাধারণ নকশা পুরোটাই বাঙ্গালী নারারা নিজ হাতে করে। নুন্যতম যান্ত্রিকতার আশ্রয় নেয় না।

বাঙ্গালী নারীরা খাবারেও যে অসাধারণ কারুকার্যের প্রতিভা বহন করে এটা বুঝা যায়, নকশী পিঠা দেখলে। কত বাহারি রঙ্গের আর বাহারি নকশার পিঠা উৎপাদন করে বাঙ্গালী নারীরা। যা না দেখলে বিশ্বাসও হতে চাই না। বাঙ্গালী নারীদের এমন আরো অসাধারণ কিছু গুনাবলী।

বাঙ্গালী পুরুষ যে খুব পিছিয়ে আছে কুটিরশিল্পে। বিষয়টি এমনও কিন্তু নয়। গ্রামীণ কৃষক-কৃষানীরা নিজেদের কৃষিকাজে ব্যবহৃত প্রায় প্রতিটি পণ্যই নিজ হাতে তৈরী করেন। এমনকি তারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও বেশকিছু পণ্য উৎপাদন করেন।

এটি যে কেবল বাংলাদেশের বাঙ্গালী জনগণের মাঝে রয়েছে বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। বাংলাদেশের অবাঙ্গালী জনগোষ্ঠী তথা উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মাঝেও এর বেশ জনপ্রিয়তা ও প্রসার রয়েছে। অধিকাংশ উপজাতি জনগণ এখনো নিজেদের পণ্য নিজেরাই উৎপাদন করে। মণিপুরী জনগণ এখনো নিজেরা হাতে শাড়ি বুনে। যা বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশে বেশ জনপ্রিয়। এইছাড়াও, পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা নারীরা নিজেদের হাতে শাড়ি বুনেন। সাধারণত এই শাড়িকে পিনন শাড়ী বলা হয়। এইছাড়াও, উপজাতী এবং বাঙ্গালী জনগণ আরো বেশকিছু পণ্য নিজ হাতে উৎপাদন করেন। ব্যাগ, মোড়া, শাড়ি, ফতোয়া, ছাতা, মাটির পণ্য, বাশের খাঁচা, সুতা, বালিশ ইত্যাদি। বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশেও এই কুটির শিল্প বেশ জনপ্রিয়।

ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে কুটিরশিল্পের প্রসার রয়েছে। এখন অনেকেই কুটিরশিল্পকে বেছে নিয়েছে জীবিকা নির্বাহের উপায় হিসেবে। কেউ কেউ কুটির শিল্পকে গ্রহণ করেছে শখের বসে অবসর সময় কাটানোর উপায় হিসেবে। তবে, কুটিরশিল্পকে যে যেই উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করুক। একসময় মানবজীবনের একমাত্র অবলম্বন ছিলো এই কুটিরশিল্প। কুটিরশিল্প মানব সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কুটিরশিল্প কিংবা হস্তশিল্পে উৎপাদিত পণ্য এখন থেকে পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক ই-কমার্স শপ শপিং মাষ্টারযে। আপনার চাহিদাকৃত পণ্য যদি না থাকে শপিং মাষ্টারের স্টোরে। চাহিদা জানালেই ইন এ স্টক করা হবে সে পণ্যটিকে।

শপিং মাষ্টার্স থেকে যে কোন পণ্য কিনতে ভিজিট করতে হবে www.shoppingmasterz.com অথবা ফেসবুক পেজের মাধ্যমেও অর্ডার দেয়া যাবে। ফেসবুক পেজ https://facebook.com/shoppingmasterz এর মাধ্যমে। যে কোন অভিযোগ, তথ্য ও পরামর্শ জানতে মেসেজ দেয়া যাবে ফেসবুক পেজে অথবা contact@shoppingmasterz.com এই ই-মেইলে মেইল দেয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

X